মার্কিন পপ সম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা। বেশ কিছু দিন ধরেই তার সুর-সংগীতে জমজমাট বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের আলোচনা চলছিল। বিষয়টি তিনি নিজেই তদারকি করছিলেন। জানা গেছে, বহুল প্রতীক্ষিত বায়োপিকটি আর বানানো হচ্ছে না।
শেষ পর্যন্ত হলিউড স্টুডিও ‘ইউনিভার্সাল’র সঙ্গে বাজেট নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় প্রকল্পটি বাতিল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন পপ তারকা নিজেই।
‘ইন্টারভিউ’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাডোনা বলেন, ‘বাজেট নিয়ে ইউনিভার্সালের সঙ্গে আমাদের মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। কারণ আমার একটি অসাধারণ এবং বিশাল জীবন রয়েছে, তাই এটি পর্দায় তুলে আনতে আমার বড় বাজেটের প্রয়োজন ছিল।’
খরচ কমিয়ে আনতে ম্যাডোনা সিনেমার শুটিং সার্বিয়াতে স্থানান্তরের প্রস্তাব করেছিলেন, কিন্তু স্টুডিও কর্তৃপক্ষ তা মেনে নেয়নি। ম্যাডোনা বলেন, ‘আমি সার্বিয়াতে কম খরচে সিনেমাটি বানানোর একটি পথ বের করেছিলাম, কিন্তু আমার মনে হয় তারা এই ধারণায় খুব একটা আগ্রহী ছিল না—আমি ঠিক জানি না।
সম্ভবত তারা আমার ওপর বিশ্বাস রাখতে পারেনি। তাদের প্রথম প্রতিক্রিয়াগুলোর একটি ছিল- আমাদের বিশ্বাস হয় না যে আপনি সার্বিয়াতে চার দিনের বেশি টিকতে পারবেন।’
এর জবাবে ম্যাডোনা উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘আমি তাদের বলেছিলাম, আপনারা কি চিত্রনাট্যটি পড়েছেন? আমার পুরো জীবনটাই তো টিকে থাকার লড়াই (সারভাইভাল)। আমি সেখানে কোনো ছুটিতে যাচ্ছি না।’
২০২০ সালে প্রথম এই প্রজেক্টটির ঘোষণা দেওয়া হয়। ‘ইয়াং অ্যাডাল্ট’ ঘরানার খ্যাতনামা লেখক ডায়াবলো কোডির লেখা চিত্রনাট্যে ম্যাডোনা নিজেই এটি পরিচালনা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমার নিজের কণ্ঠ ও দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে আমার জীবনের এই রোলারকোস্টার রাইডটি সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।’
এর আগে ২০১৭ সালে ইউনিভার্সাল স্টুডিওজ ম্যাডোনার প্রাথমিক ক্যারিয়ার নিয়ে ‘ব্লন্ড অ্যাম্বিশন’ নামের একটি সিনেমা নির্মাণের স্বত্ব কিনেছিল। ম্যাডোনা সেটির তীব্র সমালোচনা করে ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন, ‘ইউনিভার্সাল স্টুডিওজ কেন সম্পূর্ণ মিথ্যা একটি চিত্রনাট্যের ওপর ভিত্তি করে আমার বায়োপিক বানাতে চাইবে?’
পরবর্তীতে ম্যাডোনার নিজস্ব প্রজেক্টের জন্য ‘ম্যাডোনা বুটক্যাম্প’ খ্যাত এক কঠোর অডিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল চরিত্রে অভিনয়ের জন্য জুলিয়া গার্নারকে নির্বাচিত করা হয়। তবে ২০২৩ সালে খবর আসে যে, ‘হুজ দ্যাট গার্ল’ টাইটেলের এই সিনেমাটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে।
ম্যাডোনার পূর্ববর্তী চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার
পরিচালক হিসেবে ম্যাডোনার পূর্বের অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর নয়। এর আগে তিনি দুটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন—‘ফিল্থ অ্যান্ড উইজডম’ (লন্ডনে সফল হতে চাওয়া এক ইউক্রেনীয় সংগীতশিল্পীকে নিয়ে) এবং ‘ডব্লিউ.ই.’ (ওয়ালিস সিম্পসন এবং সাবেক অষ্টম এডওয়ার্ডের কাহিনী নিয়ে)।
ব্রিটিশ পত্রিকা ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর চলচ্চিত্র সমালোচক পিটার ব্র্যাডশ এই দুটি সিনেমাকেই মাত্র ‘ওয়ান স্টার’ রিভিউ দিয়েছিলেন।
অবশ্য অভিনেত্রী হিসেবে ম্যাডোনার ঝুলিতে বেশ কিছু প্রশংসিত কাজ রয়েছে, যার মধ্যে ‘ডেসপারেটলি সিকিং সুসান’, ‘ডিক ট্রেসি’, ‘ইভিটা’ এবং ‘দ্য নেক্সট বেস্ট থিং’ অন্যতম।
সাক্ষাৎকারে ম্যাডোনা আরও জানান, তিনি নেটফ্লিক্সের জন্য একটি সিরিজ করার প্রস্তাব পেয়েছিলেন, কিন্তু সেখানেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় ইউনিভার্সাল স্টুডিওজ। কারণ সিনেমাটির জন্য যে চিত্রনাট্য তিনি লিখেছিলেন, সেটির মালিকানা ছিল ইউনিভার্সালের হাতে।
ম্যাডোনা আক্ষেপ করে বলেন, ‘নেটফ্লিক্স একটি সিরিজ করার জন্য যোগাযোগ করেছিল। সেটি ছিল আরেক দীর্ঘ প্রক্রিয়া। কারণ ইউনিভার্সালের কাছে থাকা চিত্রনাট্যটি আমি ব্যবহার করতে পারছিলাম না, যদি না আমি তাদের কাছ থেকে সেটি চড়া দামে কিনে নিতাম—অথচ চিত্রনাট্যটি আমারই লেখা! এরপর আমি বোঝার চেষ্টা করলাম সিরিজ কীভাবে তৈরি হয়। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রক্রিয়া। আপনাকে অনেক লেখকের সঙ্গে বসতে হবে, সঠিক ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে হবে যিনি শোটি এগিয়ে নেবেন... কিন্তু আমি তেমন কাউকেই খুঁজে পাইনি।’


